Description
১৮৬৬ সালে প্রকাশিত বাংলা ভাষায় রচিত একটি উপন্যাসের একজন চরিত্রের সংলাপ, “আহা! কি দেখিলাম! জন্মজন্মান্তরেও ভুলিব না।” মুগ্ধতার প্যারামিটার বোধহয় এমনই হওয়া উচিত, হয়ে থাকে, যা অবিস্মরণীয়, চিরকালীন। পাবলো নেরুদার মূল স্প্যানিশ ভাষায় লিখিত Twenty Love Poems and A Song of Despair এমনই এক অনতিক্রম্য, যাকে বিস্মৃতি, কালের ভাঙচুর অমলিন করতে পারেনি। আজও বিক্ষুব্ধ, বিভ্রস্ত হৃদয়ের আরোগ্য হয়ে এই কবিতারা যেন মোলায়েম প্রলেপের মত আমাদের অস্থিরতাকে লাগাম পরায়, কিছুক্ষণের জন্য হলেও আমাদের পার্থিব আওতা থেকে অমর্ত্যের দিকে ধাবিত করে। আমরা সমর্পিত হই, অলীক প্রসন্নতায় পূর্ণ হয়ে উঠি। তারপর? আবার অপেক্ষমান ব্যস্ততার সমুদ্রে নাও ভাসিয়ে দিতে অনিশ্চয়তা থাকে না, বিমূর্ত আলোর স্নানে আমাদের হতশ্রী বেঁচে থাকাও বড় প্রিয় হয়ে ওঠে। এই কারণেই কবিতার কাছে ফিরে ফিরে আসে মানুষ। উপলব্ধি করে- স্বর্গের অস্তিত্ব কাল্পনিক হলেও, আমাদের কিন্তু পারিজাত রয়েছে! ভুবনায়নের জটিল গোলকধাঁধায় সবকিছু ঘেঁটে গেলেও মূলসুরের সাপেক্ষ সমমেলগুলি এভাবে অমরত্বের দাবী প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছে কবে, ঠিক জানা না থাকলেও আমাদের প্রভাবিত সহনে-অসহনে, আর্দ্রতা-অনার্দ্রতায়, কম্পনে-অকম্পনে রণিত হয়েছে কবিতার কুহক। Twenty Love Poems and A Song of Despair এমনই এক অমোঘ। রোমান্টিকতার মোড়কে এভাবে সমাজ, লোকশ্রুতি, আটপৌরেয়ানার আভিজাত্যের মিশেল সম্ভব করে তুলতে পারার জাদুকরকে আরও একবার স্মরণ করার প্রয়াস। যেভাবেই হোক কবিতার সঙ্গে বেঁচে থাকার দূরত্ব এক বিঘতের মধ্যে রাখতে চাওয়ার ঝোঁক যদি আপনার থাকে, প্রিয় পাঠক, এই বইটির মলাট উল্টে ভেতরের দিকে আপনি না এসে পারবেন না। কারণ এখানে কবিতা ও চিত্রকলার বৈদগ্ধের এক অভিনব মেলবন্ধন ঘটেছে, তৈরী হয়েছে অলৌকিক এক মৌতাত।