Description
শুরুটা ছিল কিছু নিরীহ প্রশ্নের থেকে। ‘সতীর্থে’ ‘তীর্থ’ কেন? ‘কেশবে’র ‘কেশ’ কোথায়? ‘পরমানিকে’ ‘মানিক’ কেন? ‘নাগরিকে’র ‘নাগ’ কে? ‘মেধা’ আর ‘মেধ’-এর কী সম্বন্ধ? ‘উদাহরণে’ কী ‘হরণ’ হয়? ‘মন্দিরে’র ভিতর ‘মন্দ’ কোন যুক্তিতে? –এই ধ্বনিগত মিল কি অকারণেই!
উত্তর খুঁজতে গিয়ে দেখা গেল, আমাদের মুখের ভাষার পরতে পরতে ছড়িয়ে রয়েছে এই ভূখণ্ডের ইতিহাস, সংস্কৃতি, চেতনার অন্দরমহলের চাবিকাঠি। সেই ইতিহাসের চরিত্রেরা দীর্ঘদিন নীরব। সেই সংস্কৃতির সরোবর ছেয়ে গিয়েছে অপব্যাখ্যার শ্যাওলায়। সেই চেতনাও যেন মুখ ঢেকেছে বিস্মৃতির গোধুলিলগ্নে।
এই যাত্রাপথে প্রথমেই উপলব্ধি হয়, আমরা ইতিহাসবিমুখ নই। শুধু আমাদের ইতিহাস-কে বলার পদ্ধতিটি আলাদা। সহসা মনে পড়ে রবীন্দ্রনাথও বলেছিলেন, “ইতিহাস সকল দেশে সমান হইবেই, এ কুসংস্কার বর্জন না করিলে নয়। … রাজবংশমালা ও জয়পরাজয়ের কাগজপত্র না পাইলে যাঁহারা ভারতবর্ষের ইতিহাস সম্বন্ধে হতাশ্বাস হইয়া পড়েন এবং বলেন, যেখানে পলিটিক্স্ নাই সেখানে আবার হিস্ট্রি কিসের, তাঁহারা ধানের খেতে বেগুন খুঁজিতে যান এবং না পাইলে মনের ক্ষোভে ধানকে শস্যের মধ্যেই গণ্য করেন না। সকল খেতের আবাদ এক নহে…।”
দেখাই যাক না, বিস্মৃতির অহল্যাভূমি ভাষার লাঙ্গলের স্পর্শে জেগে ওঠে কিনা। কে জানে, হয়তো মিললেও মিলতে পারে সোনার ফসল।