Description
মানুষের মনের বন্ধ কুঠুরির মধ্যে হাঁসফাঁস করে মরে এক অজানা অন্ধকার। যুক্তিবুদ্ধি, নীতিনৈতিকতার বেষ্টনী ছিন্ন করে বাইরে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করে সে। আর এভাবেই অবদমিত কামনা-বাসনার স্ফুলিঙ্গ কখনও অতর্কিতে বেরিয়ে আসে এক দুর্গন্ধময় পিচ্ছিল পথে। কখনও হ্যানসেল-গ্রেটেলের কুচক্রী ডাইনি, কখনও লেডি ম্যাকবেথ, যে স্বামীকে প্ররোচিত করেছিল একটি ভয়ঙ্কর অপরাধের সামিল হতে, আবার কখনও বা আবার শকুনির পাশার মত পৈশাচিক হাসি হাসে সেই চিরাচরিত অন্ধকার। যুগের পর যুগ ধরে পা টিপে টিপে এগিয়ে আসে অশ্বত্থামা ঘুমন্ত মানুষের বুকে কিরিচ ঢুকিয়ে দিতে। জীবন এখানে মেডুসার চোখে চোখ রেখে স্থির হয়ে যায়। প্রাণের স্পন্দন টের পায়না অতি বিষধর সাপও। কেবল অজান্তে গড়িয়ে পড়ে লালায়িত বিষ!
সেইসব আদিম অন্ধকার ও লালায়িত বিষমিশ্রিত অজস্র ঘটনাই নেমে এসেছে সুলেখিকা সাগরিকা রায়ের কলমে— লেখিকা তাদের সাজিয়ে তুলেছেন ‘প্যান্ডোরার বাক্স’-এর বারোটি গল্পের মাধ্যমে। অন্ধকারময় বিচিত্র চরিত্রগুলি ঘুরে বেড়াচ্ছে এ গল্পগ্রন্থের আনাচেকানাচে। নানাবিধ আকার ধারণ করে ভয়াল জীবনচিত্রকে সামনে নিয়ে আসছে। এক বীভৎস, কদর্য, ঘিনঘিনে অন্ধকার লুকিয়ে আছে প্যান্ডোরার বাক্সে। বাক্সের ঢাকনা খোলার অপেক্ষামাত্র।



