Description
আক্কাদীয় সম্রাট সার্গন দ্য গ্রেটের কন্যা ছিলেন এনহেদুয়ানা। বিশ্বের প্রথম মহিলা কবি। কিউনিফর্ম লিপিতে লিপিবদ্ধ আছে তাঁর অসংখ্য কবিতা। তিনি ছিলেন সুমেরীয় দেবী ইনান্নার মন্দিরের মহাযাজিকা। পরোক্ষে উর সাম্রাজ্য শাসন করতেন তিনি। সেই সময়ে পুরোহিতের ক্ষমতা ছিল শাসকের উপরে। বুদ্ধিমান সার্গন অত্যন্ত কৌশলে কন্যাকে মহাযাজিকা পদে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। যাতে সমগ্র মেসোপটেমিয়াকে এক প্যান্থিয়নে আনা যেতে পারে। কারণ সেই সময়ে প্রজ্ঞা, যুদ্ধ আর প্রেমের দেবী ইনান্না বা ইশতার ছিলেন সমগ্র মেসোপটেমিয়ার প্রধান দেবী। পুরোহিত ছিলেন সর্ব্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী। তাঁর নির্দেশেই সাম্রাজ্য শাসন করতেন রাজা বা সম্রাট।
সম্রাট সার্গনের স্বপ্ন সার্থক হয়েছিল। এনহেদুয়ানার পরামর্শে সমগ্র মেসোপটেমিয়াকে এক ছাতার নিচে আনতে সক্ষম হয়েছিলেন। এটা সম্ভব হয়েছিল এনহেদুয়ানার প্রখর বুদ্ধিমত্তা এবং রাজনৈতিক কলাকৌশলে।
এনহেদুয়ানা একাধারে যেমন বিদূষী, কবি, সুগায়িকা তেমনি ছিলেন প্রখর রাজনীতি অভিজ্ঞ। সুমেরীয় এবং আক্কাদীয় ভাষাগোষ্ঠীর মানুষদেরকে নিয়ে এক মিশ্র সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল মেসোপটেমিয়ায়। সাহিত্য, ধর্ম দর্শন, বিজ্ঞানে মেসোপটেমিয়ার সমুন্নতির মূলে ছিলেন এনহেদুয়ানা। মেসোপটেমিয়ার নারীদের জন্যে বহু জনহিতকার প্রকল্প গ্রহণ করেছিলেন। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে আশ্চর্য হতে হয় তাঁর দূরদর্শিতা লক্ষ্য করে। কিন্তু তাঁর জীবন কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। বৈমাত্রেয় ভাই এবং একজন সেনাপতির চক্রান্তে তাঁর জীবন বিভীষিকাময় হয়ে ওঠে।
আলোচ্য উপন্যাসে এনহেদুয়ানার জীবনের নানা ওঠানামা, প্রেম, আনন্দের মুহূর্তগুলো যেমন সুন্দরভাবে চিত্রিত হয়েছে অন্যদিকে তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত, রাজনৈতিক জটীলতা, জীবনের বাঁক বদল, কঠিন সমস্যাদীর্ণ সময় তিনি কীভাবে যাপন করেছেন সমস্তটাই নিটোলভাবে বর্ণিত হয়েছে।
মেসোপটেমিয়ার চাঁদ
এনহেদুয়ানা: বিশ্বের প্রথম মহিলা কবি
ছন্দা বিশ্বাস
উপন্যাস

