Description
বিশাল বিশাল গাছে ঘেরা গহন অরণ্য, আর তার ফাঁকে বয়ে যাওয়া ছোট্ট ঝোরা, সাহেবী বনবাংলো। হঠাৎ জিপের সামনে এসে পড়া পাগলা হাতি, রাতে বাংলোর চৌকিদারের রান্না— বনমুরগির ঝোল, মহুয়ার সুবাস, দূরের কোন আদিবাসী গ্রাম থেকে ভেসে আসা মাদলের শব্দ, অন্ধকারের বুক চিরে হঠাৎ একটা চাপা গর্জন আর তারপরেই হরিণের মরণ আর্তনাদ— এই সমস্ত রহস্যময়তা নিয়ে ভ্রমণপ্রিয় মানুষকে হাতছানি দেয় জঙ্গল।
পালামৌ থেকে সারান্ডা, কানহা থেকে সিমলিপাল, কাবিনী থেকে বিনসর, ভারতবর্ষের এইরকমই বিভিন্ন আদিম, অনাঘ্রাত কিছু অরণ্যে ঘুরে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে এই বইয়ের পাতায় পাতায়।
বাইশ বছর আগে কলেজ পড়ুয়া ক’জন বন্ধু তখনকার চেনা ছকের বাইরে পা বাড়িয়ে পৌঁছেছিল পালামৌ অরণ্যে। মারুমারের বনবাংলোয় বসে বাকরুদ্ধ হয়ে সামনের হুলুক পাহাড় আর মিরচাইয়া ফলসের দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়েছিল তারা। সেই শুরু…
তারপর কুড়ি বছরে তারা ঘুরে বেড়িয়েছে ভারতের অনেকগুলো জঙ্গল। শুধু প্রকৃতি বর্ণনায় থেমে থাকেনি তাদের জার্নি। সেই বন্ধুরা সাক্ষী থেকেছে অনেক রোমাঞ্চকর, ভয়াল এবং বিভিন্ন মজাদার নানা অভিজ্ঞতা ও কীর্তিকলাপের সঙ্গে।
যেহেতু সমবয়সী কিছু বন্ধুর জঙ্গলের অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে প্রতিটি লেখায়, হয়তো পাঠকও কোথাও মিল খুঁজে পেয়ে যেতে পারেন নিজের বন্ধুদের সঙ্গে অনেকদিন আগে বেড়াতে যাওয়ার দিনগুলির।