Description
“ডিহি কলকাতার দিননামা” আসলে কলকাতার বনেদিয়ানার বন্ধকী তমসুকের আখ্যানমালা আর প্রতিরোধের বৃত্তান্ত।
আওরঙ্গজেবের নাতি তৎকালীন বাংলার সুবেদার আজিম-উস-সানকে হাত করে দিল্লির দরবার থেকে ডিহি কলকাতা, সুতানুটি এবং গোবিন্দপুর এর জমিদারি স্বত্ব ব্যবস্থা করে নিয়েছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। দরবারের আদেশে সামান্য কিছু টাকার বিনিময়ে এই তিনটি গ্রামের জমিদারির স্বত্ব হস্তান্তর করে দিতে বাধ্য হয়েছিল সাবর্ণ রায়চৌধুরীরা।
তবে সাবর্ণ রায়চৌধুরীদের পক্ষে কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি নামায় সই করানো হয়েছিল একজন নাবালক উত্তরাধিকারীকে দিয়ে। আশা ছিল পরিস্থিতি অনুকূল হলে কোন এক সময় এই চুক্তিকে অস্বীকার করা যাবে।
কিন্তু সেই সুযোগ আর আসেনি। পলাশীর পর রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতা দ্রুত কেন্দ্রীভূত হয়েছিল কোম্পানির হাতে।
পাশাপাশি উঠে এসেছিল কলকাতার দেশি নগরপিতারা। যারা ব্রিটিশদের সহযোগী। সরাসরি স্বার্থের বন্ধনে আবদ্ধ। কোম্পানির স্বার্থে বাংলার এবং পরবর্তীতে গোটা ভারতের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার যে কাঠামোগত সমঝোতা কায়েম করা হয়েছিল তার প্রত্যক্ষ সহযোগী ছিল এই বনেদি ভদ্রবিত্তরা।
নগর কেন্দ্র হিসেবে কলকাতা গড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে জেঁকে বসা, শ্রমের সচলতার নতুন নজির, জাত-পাতের জটিল অংক, নতুন অভিজাত শ্রেণীর তকমার আড়ালে হঠাৎ বাবুদের বোলবোলা এসব কিছুই সামনে এসেছিল। পাশাপাশি ছিল লুটেরা কোম্পানি ও তার সহযোগীদের নিষ্পেষণের বিরুদ্ধে দেশজ মানুষের বিভিন্ন বর্গের প্রতিরোধ।
শহর কলকাতা গড়ে উঠবার আদি পর্বের সেই বহুমাত্রিক ক্রান্তিকালকে ঝাঁকিদর্শনে দেখার চেষ্টাতেই এই “ডিহি কলকাতার দিননামা।”
এটি ইতিহাস আশ্রিত কোন উপন্যাস নয়। বরং উপন্যাসের আদলে এক অন্য ইতিহাস।
ডিহি কলকাতার দিননামা
সুমিত চৌধুরী।
উপন্যাস