Description
বিধুমুখীর আখ্যান-এর পটভূমি উনিশ শতকের কলকাতা, তখন চলছে বাবু-কালচারের রবরবা। মহিলাদের অধিকাংশই অন্তঃপুরবাসিনী। তবে সেই ঘেরা-বারান্দার ভিতর মাঝেমধ্যে জাফরি-ঘুলঘুলির ফাঁক গলে ঢুকে পড়েছে অন্য রকমের হাওয়া। বাবু-কালচারে অভ্যস্ত অন্তঃপুরগুলোতে সেই হাওয়াবদলের ঘূর্ণিপাক তৈরি করছে নতুন সময়ের আবহ। রমণীমোহন চাটুজ্জে যদি সেই বাবু-হাওয়ার আদিকল্প হয়, তাহলে তার উলটো হাওয়াটা ওঠে রমণীমোহনেরই তিন কেলাস-পড়া সতীলক্ষ্মী অন্তঃপুরিকা বিধুমুখীর জীবনস্বপ্নে। বিধুমুখী শব্দ ডানায় ভর করে মুক্তির স্বপ্ন দেখে। যে স্বপ্ন চারিয়ে যায় মফস্সল থেকে সেই কাশীধামের গঙ্গাপ্রবাহে এবং কলকাতার অলিগলিতে। তবে এই উপন্যাস শুধুমাত্র নারীমুক্তির কথা বলে না। সেই টালমাটাল সময়ের রাহুগ্রাসের মধ্যে পড়ে থাকা আপাত পুরোনোপন্থী, বাবু-কালচারে অভ্যস্ত পুরুষেরাও আলোয় ফিরতে চায়। হালকা কৌতুকের ভাষাবয়নে এবং পরিচ্ছেদগুলির উপনামে সমাজের সেই সংক্রান্তি-কালের অন্তর্লীন সংঘাতকে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
