Description
‘গুপ্তকথা’র তর্জমাগত অর্থ গোপন কথা। সে কথার মধ্যে ফিসফিস করে নিষিদ্ধতার বেড়াজাল। সাবেক বাঙালি রক্ষণশীল সমাজের নিষিদ্ধ শরীরী প্রেম-ভালোবাসার বিকিকিনির বটতলা। শুনতে মন্দ লাগে কি? মন্দ হোক বা না-হোক রহস্য-রোমাঞ্চ ঠোঙাভরা। গোপন কথাটি রবে না গোপনে উঠিল ফুটিয়া নীরব নয়নে। বঙ্গের গুপ্তকথা জুড়ে নানা রঙের রামধনু। ধনী-দরিদ্র, উকিল-মোক্তার, ডাক্তার-বৈদ্য, পুলিশ-প্রহরী, জজ ম্যাজিস্ট্রেট, ব্রাহ্মণ-পণ্ডিত, নট-নটী সকলেই গুপ্তকথার মিছিলে নরক গুলজার। বাংলা ভাষায় গুপ্তকথা চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ এক সংযোজন। চর্চিত হয়েছে নিষিদ্ধতার গলি থেকে রাজপথ। আতসকাচের নীচে গুপ্তকথার নানা ময়নাতদন্ত। সরসীলতার গুপ্তকথা থেকে ছোট বউয়ের গুপ্তপ্রেম। সমাজের উপরিতলের সাজানো-গোছানো পালিশের তলায় ভিন্নধর্মী ছবি প্রবহমান। সেই ছবির অনুপুঙ্খ বর্ণনাই গ্রন্থের উপজীব্য। কনফেশন সামাজিক অবদমনের বিরুদ্ধে। শরীরী বিদ্রোহ নয়, মুক্ত কণ্ঠস্বর। বেথুন স্কুলের মানদা রমেশদার সঙ্গে ঘর ছাড়লেও স্বেচ্ছায় হাড়কাটা ও রামবাগানের বেশ্যা পট্টিতে। বাজার দর যাচাই করে দেহ বিক্রি। অবশ্যই গ্রন্থের মূল সুর সামাজিক অন্ধকারে টর্চের আলো ফেলা। আলোর নীচে অন্ধকারের কাব্যময়তা। মন্দ হবে কেন, মন্দ নয়। কলমের নিজস্বতা জানান দেয় গুপ্তকথা মন্দ নয়।