Description
অনাদিকাল থেকে বাংলার দাদু-ঠাকুমারা বাচ্চাদের গল্প বলেছেন। তুতো ভাই-বোনের সঙ্গে জাদুময় মশারির ঘেরাটোপে গুটিসুটি শুয়ে সেই কথা-বলা পাখি, পক্ষীরাজ ঘোড়া, সাহসী রাজপুত্র, বুদ্ধিমতী রাজকন্যা, আর ভয়াবহ রাক্ষস রাজা-রানির গল্প শুনতে শুনতে এক রোমাঞ্চকর নতুন জগতে হারিয়ে যেতে থাকত না কোনো বাধা। আসলে রূপকথার প্রচার হয় মুখে মুখে— এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে গল্পগুলি ছড়িয়ে পড়ে। প্রতি কথক এই সব গল্পে নিজের পছন্দ মতো কিছু যোগ করেন বা বাদ দেন।
২০১৮ সালে আমেরিকার বিখ্যাত স্কলাস্টিক পাবলিকেশনের প্রকাশিত ভারতীয় বংশদ্ভূত সায়ন্তনী দাশগুপ্তের “THE SERPENT’S SECRET”-এর শিকড়েও জড়িয়ে আছে বাংলার লোককথা, উপকথা, রূপকথা, আর শিশুসাহিত্য, তবে এটি নতুন আঙ্গিকে নতুন কাহিনি।
কিরণমালার অভিযান বর্ণনা করতে গিয়ে ঠাকুরমার ঝুলি, আবোল তাবোল, টুনটুনি, পঞ্চতন্ত্র যেমন অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে লেখককে তেমনই তাঁর কল্পনায় দাগ কেটেছে কৃষ্ণবস্তু (ডার্ক ম্যাটার), স্ট্রিং থিওরি, আইনস্টাইন রিং সম্বন্ধীয় কিছু বৈজ্ঞানিক আলোচনা। এই গল্পে রাক্ষসরাজ্য আর মায়াপাহাড়ের চিহ্নগুলোর প্রেরণা পেয়েছেন ভারতের রাস্তায় ভুল বানানে লেখা চিহ্ন আর লরির গায়ে লেখা বিজ্ঞাপন থেকে। আবার অনাস্বাদিত রাখেননি সেই শাশ্বত ভারতীয় দর্শন— ‘আমাদের জীবন, জীবাত্মা আর পরমাত্মার মিশ্রণ।’
গল্পের খাতিরে অবশ্য বইয়ের অনেকটাই কল্পনা আর অলীক কাহিনি। প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বইয়ের বিক্রি মনে করায় রাওলিং-এর হ্যারি পটার সিরিজকে। বইটি ইতিমধ্যেই জার্মান ভাষায় অনূদিত হয়েছে। স্পেন, নরওয়ে ও তুরস্ক বইটির অনুবাদ স্বত্ব কিনেছে। বাংলা ভাষার অনুবাদ স্বত্ব পেয়েছে — দ্য কাফে টেবল। ‘নাগরাজের গুপ্তকথা’ নাম দিয়ে বইটির অনুবাদ করেছেন শমীতা দাশ দাশগুপ্ত এবং অদিতি সরকার। আসুন তবে সামিল হওয়া যাক কিরণমালার অভিযানে। খুঁজে নেওয়া যাক এক টুকরো ফেলে আসা শৈশব…
বাবা-মায়ের চোখের মণি, বারো বছরের কিরণমালা স্কুল থেকে নিউ জার্সির বাড়ি ফিরে দেখে তার বাবা-মা উধাও। কী হয়েছে ভাবতে না ভাবতে উপস্থিত হল এক ভয়ঙ্কর রাক্ষস। কিরণ বুঝতে পারে না এই বিকট দৈত্যই কি ওর মা-বাবাকে উড়িয়ে নিয়ে গেছে? ব্যাপারটা আরও গুলিয়ে দিতে দরজায় কড়া নাড়ল দুই অসম্ভব সুন্দর রাজপুত্র। পক্ষিরাজ ঘোড়ায় চেপে তারা কিরণকে উড়িয়ে নিয়ে গেল অন্য এক ডাইমেনশনে – যেখানে জাদু, চলন্ত মানচিত্র, আর খিটকেল কথা-বলা পাখি তাকে সাহায্য করতে এসেছে। মা-বাবাকে ফিরে পেতে কিরণকে মোকাবিলা করতে হবে নাগরাজ, রাক্ষসী রানি, আর ধাঁধা-বলা দানোর সঙ্গে। শুধু নিজের মা-বাবা নয়, প্রায় পুরো পৃথিবীর ভাগ্য নির্ভর করছে কিরণের ওপর…